LoginSign Up

ড্রাকুলার হাউজ -ফাইজা বিনতে নূর

শিল্প ও সাহিত্য 1 year ago 28 Jul, 2019 at 6:24 pm 402
Linkedin Pint
ড্রাকুলার হাউজ -ফাইজা বিনতে নূর

 

******ড্রাকুলার হাউজ ******

(পর্ব -২)

সকাল হওয়ার আগেই বাদল ঘুম থেকে উঠে গেলো। উঠেই বাকিদেরকে ফোন করে গোছগাছ করে নিতে বললো। নিজেও ফ্রেশ হয়ে নিলো এবং দরকারী জিনিসপত্র সব এক যায়গায় জড়ো করলো। তারপর সকালের সূর্যের আলো ফুটতেই খাওয়া দাওয়া করে বেরিয়ে পড়লো।

সকাল আটটা বাজতেই ওরা তিনজন বাড়ির সামনে পৌঁছে গেলো। বাড়িটার সামনে বড় করে লেখা”আলফ্রেড হাউজ”। সুজয় বাদলকে জিজ্ঞেস করলো -” এই বাড়ির মালিকের নাম কি আলফ্রেড?”

-“হবে হয়তো। ওনার নাম তো আমি জিজ্ঞেস করি নি।”

সাথী বাদলকে জিজ্ঞেস করলো- ” আচ্ছা আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি কেনো?”

-“কাশফিয়া বলেছিলো আমাদের সাথে যাবে, তাই ওর জন্য অপেক্ষা করছি।”

ওরা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলো তারপর কাশফিয়া আশার পর আলফ্রেড হাউজে প্রবেশ করলো। ওরা চারজন ধরাধরি করে নিজেদের মালামাল গুলো ভিতরে ঢুকালো। অবশ্য মালামাল বলতে নিজেদের টুকটাক কিছু জিনিসপত্র আর বইখাতা। বাকি কোনো আসবাবপত্রের প্রয়োজন নেই কারণ সব কিছুই এই বাড়িতে সাজানো আছে। বাদল,সুজয় আর সাথী ওরা তিনজন নিজেদের জন্য পাশাপাশি তিনটি কক্ষ বেছে নিলো।

যদিও বাড়িটি দোতলা, ওরা নিচতলায় থাকার মনোস্তাব করলো কারন দোতলায় বাড়িওয়ালা থাকেন।ওরা বাড়িতে ঢুকেই বাড়ির মালিকের সাথে কথা বলে তার কাছ থেকে চাবি নিয়ে নিজ নিজ কক্ষে চলে গেলো। কাশফিয়া সাথীর সাথের সাথীর রুমে গেলো ওকে সাহায্য করতে। বাসা গোছগাছ করে চারজনে ভার্সিটিতে চলে গেলো। সকালে তাড়াতাড়ি ওঠাতে সবকিছু গোছগাছ করে ভার্সিটিতে যেতে আজকে আর বেশি দেরি হলো না।

ক্লাস শেস করে চারজনে বিকালে বাড়ি ফিরে যায়। বাসায় গিয়ে সবাই মিলে রাতের খাবার রান্না করে। রান্না শেষে সন্ধ্যায় ওরা সাথীর রুমে চলে আসে গল্প করার জন্য। ওরা প্রায়ই পরিবার ছেড়ে একা থাকে, কিন্তু অনেক দিনের জন্য পরিবার ছেড়ে এই প্রথম থাকতে হচ্ছে।

চার বন্ধু মিলে নানা রকম গল্প করছে। কাশফিয়া হঠাৎ বলে উঠলো-” আচ্ছা বাড়িওয়ালা আঙ্কেলকে ডাকলে ভালো হতো না? ওনার সাথে পরিচিত হওয়া যেতো আর এই বাড়িটার নানা গল্প শোনা যেতো।”

সুজয় ওর কথার জবাব দিলো-” কি দরকার, উনি একা থেকে অভ্যস্থ। থাক পরে কথা বলা যাবে।”

সাথী কেমন যেনো আনমনা হয়ে বললো -” বাড়িটা কেমন যেনো নির্জন আর নিস্তব্ধ। মনে হচ্ছে যেনো কোনো গহীন যায়গায় বসে আছি।”

কাশফিয়া জবাব দিলো -” হয়তো হঠাৎ করে অন্য যায়গাতে আসার কারনে এমনটা মনে হচ্ছে।”

-” হবে হয়তো। কিন্তু আমি তো সব সময় একাই থাকি। আমার কাছে কখনো এতটা নির্জন লাগে নি।”

বাদল সাথীকে অভয় দিয়ে বললো -” এটা অনেক বড় বাড়ি।আর ফাঁকা বাড়ি তো, তাই হয়তো নির্জন মনে হচ্ছে। এটাই স্বাভাবিক।”

কাশফিয়া সাথীকে বললো -” সমস্যা নেই, আজকে রাতটা আমি তোমার সাথে থাকবো। দুজনে একসাথে থাকলে তোমার আর ভয় করবে না।”

ওরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলো এমন সময় ওদের কক্ষে বাড়িওয়ালা প্রবেশ করলেন।বাদল ওনাকে বসতে দিলো। তিনি ওদের খোঁজ খবর জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বাদলকে জিজ্ঞেস করলেন-” তোমাদের এখানে কোনো সমস্যা হচ্ছে নাতো?”

-” না আঙ্কেল, আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যদি হয় আপনাকে জানাবো।”

-” আমি দোতলায় থাকি। নিচে তেমন একটা নামি না। তবে তোমাদের কোনো সমস্যা হলে আমাকে ডেকো। আমি আসার চেষ্টা করবো।”

কথা বলার পর উনি চলে গেলেন। তারপর ওরা রাতে খাওয়া দাওয়া করে যে যার রুমে ঘুমাতে চলে গেলো। সাথী আর কাশফিয়া ঘরে না ঢুকে বাইরের বেলকনিতে গেলো গল্প করার জন্য। বাদল আর সুজয়ের ঘরের লাইট অফ করেছে, তার মানে ওরা ঘুমিয়ে পড়েছে। কারো ঘুমের সমস্যা হতে পারে ভেবে সাথী আর কাশফিয়া লাইট বন্ধ করে চাঁদের আলোতে বসে বসে গল্প করছিলো। দুজনে অনেকক্ষণ গল্প করে প্রায় ভূলেই গিয়েছিলো ঘুমানোর কথা।

নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে হঠাৎ সাথী হেসে উঠলো। এমন সময় কিছু একটা পড়ে ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দ হলো। শব্দটা শুনে ওরা দুজনেই চমকে উঠলো। মোবাইলের আবছা টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দেখলো দেয়াল থেকে একটা ছবি নিচে পড়ে ভেঙ্গে গেছে। “কোনো বাতাস নেই, কোনো মানুষও নেই,তাহলে হঠাৎ কিভাবে ছবিটা পড়ে ভেঙ্গে গেলো!” – সাথী মনে মনে বেশ আশ্চর্যান্বিত হলো।

কাশফিয়া গিয়ে ছবির ফ্রেম টিকে হাতে নিলো। একজন আমেরিকান ফর্সা মহিলার ছবি। কাশফিয়া সাথীকে ছবিটি দেখালো। সাথী আশ্চর্য হয়ে বললো-” এই ছবিটি এখান থেকে কিভাবে পড়লো!”

-” নিশ্চয়ই কোনো বিড়ালের কাজ, রাতে খাবার চুরি করতে এসে দেয়ালের ছবিটা ফেলে ভেঙ্গে ফেলেছে।”

-” বিড়াল অত উঁচুতে উঠবে কি করে! আচ্ছা কোনো চোর-টোর এতো নাতো?”

কাশফিয়া তাচ্ছিল্যের সুরে বললো-” চোর আসবে এই ফাঁকা বাড়িতে! কি নিতে আসবে বলো? শুধু শুধুই চিন্তা করছো তুমি। চলো ঘুমোবে চলো।”

সাথী আর কাশফিয়া ঘুমাতে চলে যায়।কাশফিয়া শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ে কিন্তু সাথীর কিছুতেই ঘুম আসছে না। এই বাড়িটাতে থাকতে ওর কেমন যেনো গা ছমছম করছে। কিন্তু কেন! ও আগেও তো একাই থাকতো। ওর বাবা সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে বেশ বড় করেই বাড়ি তৈরী করেছেন। সেই বাড়িতে সাথী আর ওর বাবা তো একাই থাকতো, কই কখনো তো এমনটা লাগে নি।

তারপর সাথী নিজে নিজেই বললো -” হয়তো হঠাৎ করে এখানে আসাতে আমার এমন মনে হচ্ছে।”

সাথী অনেকক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করলো। তারপর কখন যে ঘুমিয়ে পড়লো নিজেও জানে না। কিন্তু হঠাৎ কারো পায়ের শব্দে সাথীর ঘুম ভেঙে গেলো।

চলবে……….

লেখাঃফাইজা বিনতে নূর।

1 year ago

Asr shawon
Like - Dislike Votes 0 - Rating 0 of 10

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


Enter Captcha Here : *

Reload Image

     

আরও দেখুন

ফোরাম বিভাগ